যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে বসছে তালেবানরা

আফগানিস্তানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শান্তি হওয়ার কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাক সংবাদ সংস্থা ডন। বহুল প্রত্যাশিত এই ‘চুক্তি’ স্বাক্ষর হবে কাতারের রাজধানী দোহায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বে থাকা দুই কমান্ডো এবং পরবর্তীতে নেতৃত্বে থাকা অপর নতুন এক কমান্ডোর প্রচেষ্টায় শনিবার তালেবানরা শান্তিচুক্তিতে বসছেন বলে জানিয়ে ডন।

রয়টার্স বলছে, সাত দিনের প্রাথমিক এ শান্তি প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে বলে তালেবান ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন। বিষয়টি আফগানিস্তান, তালেবান ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

জনা যায়, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্তত ৫৫টি দেশের প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর প্রায় ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে লড়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময়ের থেকে চলমান যুদ্ধের সৈন্যদের তুলে নিতে পারে এই চুক্তির মাধ্যমে। আর চুক্তির মাধ্যমে সম্পদ ও রক্তক্ষয়ের বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ যুদ্ধে আমেরিকার ৭৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, যার অবসান হতে পারে এই চুক্তিতে।

ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশটির ষ্টেট সেক্রেটারি মাইকেল রিচার্ড পম্পেও এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি দুজনেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন কি না সে বিষয়ে পরিষ্কার করা হয়নি। ইউএস এই চুক্তির মাধ্যমে ১৩ হাজার সৈন্য থেকে ৮ হাজার ছয়শ সৈন্য তুলে নেবে। যদি তালেবান কথামতো সহিংসতা কমায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাকী সৈন্যদের নিয়েও সিদ্ধান্তে আসবে।

হোয়াইট হাউজের দেওয়া এক বিৃবতিতে ট্রাম্প বলেছে, যদি চুক্তিমত তালেবানরা কথা রাখে তাহলে আমাদের সৈন্যরাও ঘরে ফিরে আসবে। এবং সেই সঙ্গে বড় এক যুদ্ধের অবসান ঘটবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইটবার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ এক দশকের বিরোধের পর আফগানিস্তান জুড়ে সহিংসতা হ্রাসের বিষয়ে আমরা তালেবানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি। শান্তির দীর্ঘ পথে এ এক বিরাট পদক্ষেপ। আমি আফগানিস্তানের সব নাগরিককে সুযোগটি কাজে লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.